
সাহিত্য ও সংস্কৃতির সুমহান ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালি কৃষ্টি ও সভ্যতাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, যুগে যুগে এদেশের কবি-সাহিত্যিকগণ তাঁদের লেখনী ও সাহিত্যকর্ম দিয়ে সমাজে বড় বড় বিপ্লব ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন সৃষ্টি করেছেন। আমাদের ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং অতি সম্প্রতি যে রক্তাক্ত জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশে পদার্পণ করেছি, তার প্রতিটি বাঁকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির রয়েছে এক অনবদ্য ও অনস্বীকার্য অবদান। বর্তমানে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা এক ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বন্ধ্যাত্ব ও সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে সাহিত্যের মূল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে হবে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও প্রগতিশীল ও অগ্রসর করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারীতে আয়োজিত ‘‘কাব্য ক্যানভাসে অনুভব’’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। অতীত এবং বর্তমান প্রজন্মের কবি ও সাহিত্যিকদের চিন্তাভাবনার মাঝে একটি সুদৃঢ় মেলবন্ধন ও সেতুবন্ধন তৈরির মহৎ লক্ষ্য নিয়ে দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে খুলনার ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যিক সংগঠন ‘আবৃত্তি ইশ্কুল’। বিশেষ এই প্রদর্শনীতে খুলনার প্রথিতযশা ও উদীয়মান কবি-সাহিত্যিকদের রচিত অনন্য সব কবিতা, জীবনঘনিষ্ঠ অণুগল্প এবং স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ ও মোড়ক স্থান পায়, যা আগত দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কেসিসি প্রশাসক এমন সৃজনশীল ও সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্য আয়োজক কমিটির সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একই সাথে তিনি এই ধরনের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন, যাতে তারা মাদকের মরণছোবল ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে সুস্থ মানসিকতায় বেড়ে উঠতে পারে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, খুলনার সাংস্কৃতিক ধারাকে সচল রাখতে এবং মেধা মনন বিকাশের এমন যেকোনো আয়োজনে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা সবসময় অব্যাহত থাকবে।
আবৃত্তি ইশ্কুলের সভাপতি আফরোজ জাহান চৌধুরী কলি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা নাছিমা সুলতানা নিলু এবং খুলনা জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালমানুল মেহেদী মুকুট। উদ্বোধনী পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আর্ট গ্যালারীর প্রদর্শনী কক্ষটি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় লেখকদের সৃজনশীল কর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় খুলনার স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।