
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের স্বার্থে ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক) সংসদীয় আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতিকুর রহমান। আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে আতিকুর রহমান তার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় এগারো মাস ধরে নির্বাচনী এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরির পর এই সরে দাঁড়ানোকে তিনি “এক বড় জবাবদিহিতার জিম্মাদারী থেকে মুক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সময়ে যারা তার পাশে ছিলেন, বিশেষ করে রাত জেগে পোস্টার লাগানো এবং জনমত গঠনে কষ্ট স্বীকার করা সকল পুরুষ ও নারী সহযাত্রী এবং এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই আসন সমঝোতার ঘোষণাটি আসে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের সম্প্রসারণের ঠিক পরপরই। একই দিনে বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এনসিপি-কে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১০ দলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন। এই বৃহত্তর ঐক্যকে নাহিদ ইসলাম ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা’র ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ‘আধিপত্যবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা’ প্রতিহত করতে এই ধরনের বৃহত্তর ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে। এনসিপি যদিও প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর পরিবর্তন এনেছে, যা তাদের কৌশল পরিবর্তনে বাধ্য করেছে বলে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন। সামগ্রিকভাবে, ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর এই সরে দাঁড়ানো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী কৌশল ও বৃহত্তর ঐক্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।