
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বর্তমান ডিজিটাল যুগের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিদ্যমান সকল ইন্টারনেট প্যাকেজের গতি তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিটিসিএলের এই নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, ইন্টারনেটের গতি কয়েক গুণ বাড়লেও মাসিক বিল বা প্যাকেজের মূল্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ গ্রাহকরা আগের নির্ধারিত খরচেই এখন থেকে অনেক বেশি উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
বিটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদান এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই আপগ্রেডের ফলে গ্রাহকরা সুলভ ও মানসম্মত ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, উচ্চমানের ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেমিংয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই গতি বৃদ্ধি বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করবে। বিটিসিএল তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাকেজে এই পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে ৩৯৯ টাকার প্যাকেজে এখন ৫ এমবিপিএস-এর পরিবর্তে মিলবে ২০ এমবিপিএস গতি। একইভাবে ৫০০ টাকার জনপ্রিয় সুলভ ও ক্যাম্পাস প্যাকেজগুলোতে গতির আমূল পরিবর্তন এনে যথাক্রমে ২৫ ও ৫০ এমবিপিএস করা হয়েছে।
মাঝারি ও উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্যও রয়েছে দারুণ খবর। এখন থেকে ৮০০ টাকার প্যাকেজে ১৫ এমবিপিএস-এর পরিবর্তে ৫০ এমবিপিএস এবং ১০৫০ টাকার প্যাকেজে ২০ এমবিপিএস-এর পরিবর্তে সরাসরি ১০০ এমবিপিএস গতি পাওয়া যাবে। এছাড়া ১১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যের প্যাকেজগুলোতেও গতির সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭০০ টাকার প্যাকেজে এখন থেকে ৫০ এমবিপিএস-এর বদলে ১৭০ এমবিপিএস গতি উপভোগ করা যাবে। বিটিসিএলের এই প্যাকেজগুলো এখন থেকে ‘সাশ্রয়ী’ ও ‘ক্যাম্পাস’ নামে নতুন আঙ্গিকে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনই বিটিসিএলের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, মূল্যের কোনো পরিবর্তন না করে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতে আরও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বিটিসিএল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।