
দীর্ঘ তিন দিনের দুঃসহ প্রতীক্ষা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে রূপসা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খুলনা জিলা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র রাফির প্রাণহীন দেহ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রূপসা খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাফি রূপসা স্ট্যান্ড রোড সংলগ্ন ডা. আলতাফ আলী লেনের ভাড়াটিয়া মো. রফিক শেখের সন্তান। গত শুক্রবার আছরের নামাজের কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। তিন দিন ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার, অবশেষে রূপসার শীতল স্রোতেই পাওয়া গেল তাদের আদরের সন্তানের নিথর শরীর।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে লবণচরা থানাধীন রেলব্রিজ এলাকায় নদীর মাঝখানে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা রাফির পরিবারকে খবর দেয়। সংবাদ পাওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে ট্রলার নিয়ে নদীতে অনুসন্ধানে নামেন। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রূপসা খেয়াঘাট এলাকা থেকে রাফির ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। পরে মরদেহটি ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের পাশে রাখা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তানকে হারিয়ে পিতা রফিকুল শেখের গগনবিদারী আহাজারিতে উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখেও পানি চলে আসে।
নিখোঁজের পর থেকেই রাফিকে ফিরে পেতে চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না পরিবারের। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রেজাউল শেখ জানান, ঘটনার দিন এশার নামাজের পরও রাফি বাড়িতে না ফিরলে পুরো এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। এমনকি তারা নিজস্ব উদ্যোগে নদীপথে বটিয়াঘাটা পর্যন্ত সুদীর্ঘ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও ব্যর্থ হন। তবে উদ্ধারের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে যে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও ৯টা পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
রাফির ছোট মামা আল আমিন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই নিখোঁজের পর আজ তাদের সব আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ইতোমধ্যে নৌ পুলিশকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সকল আনুষ্ঠানিকতা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রাফির মরদেহ তাদের পৈত্রিক নিবাস তেরখাদায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।