
বাগেরহাটে দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের ৬ জন নেতাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও মেহেবুবুল হক কিশোর। এছাড়া এই সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় এসেছেন বাগেরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক সদস্য। যাদের মধ্যে রয়েছেন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান টুটুল, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রফিকুল ইসলাম এবং ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রনি মিনা। একই সাথে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শেখ সোহেল হোসেনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এই নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ভেতর চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক বার্তা দিতেই বিএনপি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বহিষ্কারের এই আদেশে বলা হয়েছে যে, কোনোভাবেই সংগঠনের আদর্শের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত বা দলবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আকস্মিক এই বহিষ্কারের ঘটনায় বাগেরহাট জেলা বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানানো হলেও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।