1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
প্রকৃতির টানে করমজল: একদিনের সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ - khulnarprotichchobi
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| বিকাল ৪:৫১|
শিরোনামঃ
পূর্ব শত্রুতার জেরে কলাগাছ কেটে সাবাড় তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: রকিবুল ইসলাম বকুল দিঘলিয়ায় শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুরবানীর পশুর হাট, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সঙ্গে এম এ সালামের শুভেচ্ছা বিনিময় বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে কৈফিয়ত তলব দিঘলিয়ার চার ইউনিয়নে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত পকেটেই লুকিয়ে আছে গুপ্তচর: আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু হচ্ছে না তো? ভুলবশত পোস্ট হওয়া ফেসবুক স্টোরি নিয়ে বিব্রত? জেনে নিন দ্রুত ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলার সহজ কৌশল মরণঘাতী জাপানিজ এনসেফালাইটিসের হানা: বাংলাদেশে কি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা? সাধারণ জন্ডিস যখন ডেকে আনে চরম বিপদ: কখন হতে পারে প্রাণঘাতী লিভার ফেইলিউর

প্রকৃতির টানে করমজল: একদিনের সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
Spread the love

 

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারখ্যাত করমজল এখন পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে পশুর নদীর বুক চিরে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে এই অনন্য পর্যটন কেন্দ্রটি। প্রায় ৩০ হেক্টর জমির ওপর বিস্তৃত এই কেন্দ্রটি মূলত তাদের জন্য আদর্শ, যারা খুব অল্প সময়ে বা মাত্র একদিনে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের স্বাদ নিতে চান। এখানে প্রকৃতির আদিম রূপের পাশাপাশি দেখা মেলে হরিণ, রেসাস বানর এবং নানা প্রজাতির পশুপাখির। বিশেষ করে দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি এখানেই অবস্থিত, যা পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। পশুর নদীর ঢেউ আর বনের নিস্তব্ধতার মাঝে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুদের বাড়তি পাওনা।

মোংলা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে নদীপথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এই পর্যটন কেন্দ্রে। প্রবেশের শুরুতেই একটি বিশাল মানচিত্র দর্শনার্থীদের পুরো সুন্দরবন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়। এরপরই শুরু হয় রোমাঞ্চকর ‘মাঙ্কি ট্রেইল’ বা আঁকাবাঁকা কাঠের তৈরি হাঁটা পথ। বনের গহীনে তৈরি এই পথে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকরা খুব কাছ থেকে ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পথের মাঝে পশুর নদীর তীরে বিশ্রামের জন্য রয়েছে বিশেষ বেঞ্চ, যেখানে বসে নদীর শীতল হাওয়া আর বনের গন্ধে মন জুড়িয়ে যায়। দক্ষিণ দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার যাওয়ার পর পশ্চিমের অন্য একটি ট্রেইল পর্যটকদের নিয়ে যায় হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রের মূল পয়েন্টে। সেখানকার সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে দাঁড়ালে বনের উপরিভাগের সবুজের সমারোহ আর দিগন্তজোড়া প্রাকৃতিক শোভা মুহূর্তেই প্রশান্তি এনে দেয়।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য করমজলে প্রবেশের ফি নির্ধারিত রয়েছে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে। বাংলাদেশি সাধারণ পর্যটকদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৪৬ টাকা হলেও বিদেশি পর্যটকদের গুনতে হয় ৫৭৫ টাকা। তবে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ, যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ৫০ টাকা এবং বিদেশি গবেষকরা ৯২০ টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করতে পারেন। বারো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকেট মূল্য মাত্র ২৩ টাকা রাখা হয়েছে। যারা সুন্দরবনের স্মৃতি ক্যামেরাবন্দি করতে চান, তাদের জন্য ভিডিও ক্যামেরার চার্জ হিসেবে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের যথাক্রমে ৩৪৫ ও ৫৭৫ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান নিতে চাইলে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং প্রতিটি সেবার মূল্যের সাথে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

সুন্দরবনের রোমাঞ্চ যদি কেবল দিনেই সীমাবদ্ধ না রেখে রাতেও উপভোগ করতে চান, তবে তার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় সব ব্যবস্থা। পর্যটকরা চাইলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ট্যুরিস্ট ভেসেলে রাত কাটাতে পারেন। এছাড়া নীলকমলের হিরণপয়েন্ট, কচিখালীর টাইগার পয়েন্ট কিংবা কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজগুলোতেও রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। দেশি পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজের কক্ষপ্রতি ভাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হলেও বিদেশিদের জন্য তা ৫ হাজার টাকা নির্ধারিত। বিশেষ করে কচিখালীতে গ্রুপ হিসেবে চারটি কক্ষ ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া বনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বেসরকারি রিসোর্টগুলোও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি আরামদায়ক আবাসন হতে পারে। সব মিলিয়ে করমজল যেন নাগরিক জীবনের ক্লান্তি মুছে দিতে প্রকৃতির এক পরম আশ্রয়।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025