
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে সুন্দরবন থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস ও শিকারি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বনের কাগাদোবেকি সংলগ্ন ঘোলের খাল এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন।
অভিযানের বিবরণ দিয়ে কোস্ট গার্ড জানায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তাদের একটি বিশেষ দল কাগাদোবেকি স্টেশন সংলগ্ন ঘোলের খাল এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে হরিণ শিকারি চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা অভিযান শুরু করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে শিকারিরা বনের গহিন অরণ্যে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ কেজি হরিণের মাংস এবং হরিণ ধরার জন্য পেতে রাখা প্রায় ৪ হাজার মিটার সুতার ফাঁদ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাংস ও বিপুল পরিমাণ এই ফাঁদ বনের জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উদ্ধার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত হরিণের মাংস ও শিকারি সরঞ্জামগুলো পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ওই রাতেই কাগাদোবেকি ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন বিভাগ এখন এই ঘটনায় জড়িত পাচারকারী ও শিকারিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করবে। সুন্দরবনের মায়াবী হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের এই অপতৎপরতা রুখতে কোস্ট গার্ডের নজরদারি যে আরও জোরদার করা হয়েছে, এই অভিযান তারই একটি প্রতিফলন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং অবৈধ পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। বনের সম্পদ চুরি এবং বন্যপ্রাণী হত্যার মতো অপরাধ নির্মূলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরালোভাবে অব্যাহত রাখা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় তারা যেকোনো মূল্যে বদ্ধপরিকর।