
খুলনার অত্যন্ত জনপ্রিয় বিরিয়ানি হাউস ‘সেই স্বাদ’-এর কারখানায় এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটের দিকে নগরীর দিলখোলা মোড় এলাকায় অবস্থিত এই কারখানায় অতর্কিত হানা দেয় একদল দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি বিশাল বহর হঠাৎ করেই কারখানায় প্রবেশ করে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে কর্মরত স্টাফদের ওপর নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা কেবল শারীরিক আক্রমণেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ চাল, ডিম, আলু ও মূল্যবান মশলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল তছনছ করে বাইরে ফেলে দেয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সময় হামলাকারীরা বিদ্রূপাত্মকভাবে উচ্চস্বরে ‘সেই স্বাদ, সেই স্বাদ’ বলে চিৎকার করে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগমনের আগেই হামলাকারীরা সটকে পড়ে। বর্তমানে পুরো এলাকায় একটি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই হামলার বিষয়ে ‘সেই স্বাদ’ বিরিয়ানি হাউসের বর্তমান মালিক শাওন অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে সরাসরি হাত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অংশীদার সালমানের। ব্যবসার শুরুতে সালমান, শাওন ও রিমন—তিন বন্ধু মিলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ‘সেই স্বাদ’ পরিচালনা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সালমান এই অংশীদারিত্ব থেকে বেরিয়ে যান এবং নিজেই ‘সালমান ভাইয়ের সেই স্বাদ’ নামে আলাদা একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন। শাওনের অভিযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা ও অভ্যন্তরীণ রেষারেষির জের ধরেই সালমান তার দলবল নিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ও সালমান গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়েছে। মালিক শাওন আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জানান যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৫ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন যাদের জীবিকা এই রেস্টুরেন্টের ওপর নির্ভরশীল। এই হামলাকে তিনি কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন না, বরং ৪৫টি পরিবারের অন্নসংস্থানের ওপর চরম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অসহায় স্টাফদের রুটিরুজির পথ বন্ধ করে দেওয়ার এই হীন মানসিকতার বিরুদ্ধে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।