
শিল্পনগরী খুলনার অন্যতম বিদ্যাপীঠ শহীদ তিতুমীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নৈতিকতা চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন খুলনা পাবলিক কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ বেনিয়াজ জামান। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং কঠোর অধ্যবসায়, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব এস এম নাসির উদ্দিন। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাই পারে একজন শিক্ষার্থীকে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে প্রস্তুত করতে। অতিথিবৃন্দের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা নতুন শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি নবীনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই বিদ্যালয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা সন্তানদের মেধা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি সচেতন ভূমিকা পালন করেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত নিপুণভাবে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রেজওয়ান কবির। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের রজনীগন্ধা ও গোলাপের স্নিগ্ধতায় বরণ করে নেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করে। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।