
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। গত শুক্রবার খুলনা মহানগরীর ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বকুল অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে একটি বিশেষ পক্ষ সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ধর্মীয় মিথ্যা ফতোয়া ও অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। তবে খুলনার সচেতন মানুষ এখন অনেক বেশি সজাগ এবং তারা প্রকৃত উন্নয়ন ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে রায় দিতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভোট আদায়ের পুরনো কৌশল এখন আর কার্যকর হবে না এবং জনবিচ্ছিন্ন এই অপশক্তিকে জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রত্যাখ্যান করবে।
নগরীর বায়তুল নাজাত জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সভাটি মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের সভাপতি আবু সুফিয়ান নান্নু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, খুলনাবাসী বরাবরই সততা এবং সাহসিকতার পক্ষাবলম্বন করে আসছে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যখন জনগণের সামনে দাঁড়ানোর সাহস হারায়, তখনই তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি বড় অন্তরায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ স ম আব্দুর রহমান এবং খালিশপুর থানা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে মরহুম সৈয়দ জহর মীর ও বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এই দোয়া মাহফিলে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন, যা এক বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়।