
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের নির্বাচনী লড়াইকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের নেতিবাচক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও এই আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত শুক্রবার দিনব্যাপী ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জামায়াতকে নিয়ে যে ধরণের ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তার মতে, এ ধরণের বক্তব্য শুধু অজ্ঞতা প্রসূত নয় বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননার শামিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের যে অন্ধকার অধ্যায় দেশে জেঁকে বসেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও বিচার ব্যবস্থার সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, গত কয়েক দশকে অর্থনীতিতে যে প্রকাশ্য লুটপাট চলেছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তাতে দেশ আজ এক চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিচার ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালিয়ে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। এই ধ্বংসাত্মক বাস্তবতার বিরুদ্ধে দেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নেতৃত্বে বর্তমান রাজনৈতিক ঐক্য একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন নাসির গাজীর নেতৃত্বে বিএনপির বেশ কয়েকজন কর্মী মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন উঠান বৈঠক ও পথসভা শেষে বিকেলে ফুলতলা উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে জেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে ঘোষণা করেন যে, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে তারা রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। সন্ধ্যার পর আটরা-গিলাতলা এলাকার উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তিনি তার দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন, যেখানে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।