
খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্কাউটিং আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা, আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ রোভার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং খুলনা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রাণপুরুষ অধ্যাপক এ.কে.এম মুস্তাফিজুর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিনটি স্মরণে আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ এবং খুলনা জেলা রোভার স্কাউটস যৌথভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন আবেগঘন ও উৎসবমুখর কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির শুরুতেই ভোরে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় তার কবর জিয়ারত করা হয়। সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই কমার্স কলেজ প্রাঙ্গণে রোভারদের পদচারণায় এক স্মাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের রোভারদের অংশগ্রহণে পুরো চত্বর একটি মিলনমেলায় রূপ নেয়।
সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ও রোভার স্কাউটের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপরই শিশু-কিশোর ও রোভারদের মেধা বিকাশে আয়োজন করা হয় বৈচিত্র্যময় সব প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে ছিল শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রোভারদের তাৎক্ষণিক চিন্তাশক্তি বিকাশে ‘উপস্থিত বক্তৃতা’ এবং মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা। প্রতিটি আয়োজনেই স্কাউটসুলভ শৃঙ্খলার পাশাপাশি এই মহান নেতার আদর্শ অনুসরণের প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।
বেলার বাড়ার সাথে সাথে বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজের ‘মুস্তাফিজুর মিলনায়তনে’ শুরু হয় জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা ১৯৩৯ সালে পটুয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা এই কালজয়ী শিক্ষাবিদের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে ১৯৬২ সালে কমার্স কলেজে শিক্ষকতা শুরুর মাধ্যমে তিনি খুলনার মাটিতে যে রোভারিং আন্দোলনের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ কীভাবে এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়ে তরুণ সমাজকে পথ দেখাচ্ছে, সেই চিত্র উঠে আসে বক্তাদের আলোচনায়। বক্তারা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনন্য সাফল্যসমূহ। ১৯৭৮ সালে তার প্রাপ্ত ‘বার-টু-দি মেডেল অব মেরিট’ এবং ১৯৮৩ সালে স্কাউটসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘রৌপ্য ইলিশ’ প্রাপ্তির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রোভারদের মধ্যে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। কেবল স্কাউট ব্যক্তিত্বই নন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং খুলনার শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তার অবদানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে মরহুমের আত্মার শান্তি ও কল্যাণ কামনায় কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। দুপুর ২টায় সকল অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। ১৯৮৫ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেও, অধ্যাপক এ.কে.এম মুস্তাফিজুর রহমান তার কর্ম ও দর্শনের মাধ্যমে খুলনার হাজারো তরুণের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন এবং আগামীর রোভারিং আন্দোলনের বাতিঘর হিসেবে নিরন্তর প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।