
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মোড় সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভোটাধিকার রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো ‘কালো চিল’ যদি আকাশ থেকে ছোঁ মেরে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়, তবে তার ডানাসহ ছিঁড়ে ফেলা হবে। বিগত ১৫ বছরের ভোট চুরির সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিজের ভোটের পাশাপাশি অন্যের ভোটের পাহারাদার হতে হবে এবং কেউ অধিকার হরণ করতে এলে তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। নাগরিকদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠায় যার ভোট সে দিবে—এই নীতি বাস্তবায়নে জামায়াত বদ্ধপরিকর।
রাজনীতিতে বংশীয় উত্তরাধিকার বা ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এমন প্রথার তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই পুরনো সংস্কৃতি পাল্টে দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার পথ তৈরি করতে হবে। দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক চায়, কিন্তু কোনো আধিপত্যবাদ বা প্রভুত্ব সহ্য করবে না। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বন্ধুত্বের নামে যারা প্রভুত্ব কায়েম করে ৫৪ বছরের সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করেছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন।
বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলকে অবহেলিত রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের এক স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শরণখোলার দুর্গম পথ চলতে গিয়ে তিনি বারবার হোঁচট খেয়েছিলেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো নির্দিষ্ট ভিআইপি এলাকা নয়, বরং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সারা দেশের উন্নয়ন করা হবে এবং বাগেরহাটের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে ‘আজাদী’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে অভিহিত করে তিনি দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে আমরা সবাই এক।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। এছাড়া জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বাগেরহাটের ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে সমাবেশের সমাপ্তি টানেন।