
দেশের মোবাইল টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ ও ক্লোন হ্যান্ডসেটের দাপট বন্ধে নতুন বছরের শুরুতেই কার্যকর হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর। ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন ও কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও সরকারের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, আপাতত নতুন এই সিস্টেমটি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য হালনাগাদের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি সক্রিয় ফোনের আইএমইআই নম্বর একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, যা ভবিষ্যতে চোরাই বা নকল সেট শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের সংগৃহীত বিশাল তথ্যভাণ্ডার সমন্বয়ের কারণে বর্তমানে অনেক গ্রাহক তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যক সিম বা হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত দেখতে পাচ্ছেন। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব জানিয়েছেন, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়ন পুরনো তথ্য বা ‘হিস্টোরিক ডেটা’ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য মাইগ্রেশনের সময় কারিগরি কারণে বর্তমান সময়ের ডেটা হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিটিআরসি বর্তমানে অপারেটরদের সঙ্গে মিলে এই পুরনো ডেটাগুলো আর্কাইভ করার কাজ করছে, যাতে কেবল বর্তমানে সক্রিয় হ্যান্ডসেটের সঠিক তথ্য দৃশ্যমান হয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।
সিস্টেমের নিরাপত্তা ও এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনইআইআর-এ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যেমন জেডব্লিউটি ডিজিটাল টোকেন এবং রেট লিমিটিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে এনআইডি প্রতি সিমের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০টি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা অনেকের তথ্য বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ। তবে এই সিস্টেমটি চালু হওয়ার ফলে নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন তাদের অজান্তে কেউ তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অনলাইন জুয়ার মতো কাজে সিম ব্যবহার করছে কি না। ২০২১ সালের পরীক্ষামূলক উদ্যোগের পর এখন এতে নতুন ফিচার যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই বা ভিএপিটি নিশ্চিত করে গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।