
খুলনা মহানগরীর শিরোমনি এলাকায় অবস্থিত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিভাগীয় সদর দপ্তরে এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে চারতলা বিশিষ্ট ওই কার্যালয়ের সর্বোচ্চ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। হঠাৎ ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আশপাশের মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সিআইডি কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত রাসায়নিক পরীক্ষকের (কেমিক্যাল এক্সামিনার) কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ওই কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম থাকলেও আগুন মূলত আসবাবপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে কক্ষের ভেতরে থাকা চেয়ার, টেবিলসহ বেশ কিছু কাঠের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় কক্ষের ভেতরে কেউ অবস্থান না করায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা একটি বড় স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে আগুন ভবনের অন্যান্য কক্ষ বা নিচের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি। উল্লেখ্য যে, সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হওয়ায় সেখানে অনেক সংবেদনশীল নথি ও আলামত সংরক্ষিত থাকে। আগুনের ভয়াবহতা কম থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিভাগীয় সিআইডি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, তা নিরূপণে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। একই সাথে অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।