
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের অবহেলিত জনপদের ভাগ্যের উন্নয়ন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। গত শুক্রবার রাত ৮টায় মহারাজপুর খড়িয়া বাজারে সনাতন সম্প্রদায়ের হরিপূজা উৎসবে ভক্তবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় হবে জনগণের আস্থার প্রতিফলন। বিএনপি রাষ্ট্রীয় পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং আগামী নির্বাচনে তাকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মনিরুল হাসান বাপ্পী তার বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন যে, বিএনপি বরাবরই ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—এসব বিভাজনে বিশ্বাস করে না। দলের কাছে প্রতিটি মানুষই বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি অতীতেও যেমন সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি উৎসব সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি ছাড়া একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংখ্যালঘু শব্দটি রাজনৈতিক শব্দকোষ থেকে মুছে ফেলে প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারে, সেটিই হবে বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
হরিপূজা অনুষ্ঠানে ভক্তদের সাথে কুশল বিনিময়ের সময় প্রার্থীর সাথে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা ও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ নূরুল আমিন বাবুল এবং সদস্য সচিব এমএ হাসানসহ দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই কার্যক্রমে অংশ নেন। বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গড়তে ধানের শীষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সভাটি এক পর্যায়ে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। পরিশেষে মনিরুল হাসান বাপ্পী পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, উন্নত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তার দল সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে।