
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শুক্রবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহিদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময় অগণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রে স্বৈরাচার ও দুর্নীতির শিকড় শক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা মানেই হলো দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, সামাজিক ইনসাফ এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করা।
বিশেষ সহকারী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে দেশে একতরফা নির্বাচন ও রাতের ভোটের সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবারের গণভোটকে তিনি সেই সব রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ত্রুটি সংশোধনের একটি বিশেষ জানালা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বড় সংকট। তাই বিচার বিভাগ, সংসদ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংস্কার এখন অপরিহার্য। ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের মাধ্যমে আসন্ন এই গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার অপর বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, জাতি হিসেবে গত পাঁচ দশকে আমরা যে সব ভুল করেছি, তা সংশোধনের এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। এই গণভোট কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের সোপান। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান।