
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক আহ্বানের মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নগরীর ১৭, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগকালে তিনি চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে কাউকেই আর চাঁদাবাজি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না। তিনি অপরাধীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, সম্মানের কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের এমন এক সমাজ উপহার দেওয়া হবে যেখানে তাদের পরিবারকে আর সামাজিক গ্লানি নিয়ে বাঁচতে হবে না। চাঁদাবাজির অভিশাপমুক্ত হয়ে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার পরিবেশ তৈরি করাই হবে তাদের আগামীর লক্ষ্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, সেদিন দেশের সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তার মতে, সাধারণ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সাফল্য নির্ভর করছে এই গণভোটের সফলতার ওপর। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাদের অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে নাকি পুনরায় চাঁদাবাজ ও শোষকদের কবলে পড়ে পেছনের দিকে ফিরে যাবে। একটি সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমেই।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি দখলদারিত্ব ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল অভিযোগ করেন যে, সমাজে এমন অনেকে আছেন যারা দিনের বেলা মাদকের বিরোধিতা করলেও আড়ালে সেই অবৈধ কারবারের মুনাফা ভোগ করেন। তিনি এসব দ্বিমুখী চরিত্রের ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। নগরীর বাঁশতলা, ইসলামাবাদ, বানরগাতি ও সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণকালে তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভোটারদের প্রতি আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে নিজেদের রায় প্রদানের অনুরোধ জানান।