
খুলনা মহানগরীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম ত্রাস এবং একাধিক নৃশংস অপরাধের হোতা মোঃ শামীম ওরফে টুন্ডা শামীমকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। জানা গেছে, ওইদিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে “সুন্দরবন এক্সপ্রেস” ট্রেনে চড়ে সে সশরীরে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতর্কিত অভিযানে শামীমের পাশাপাশি তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে তাকে সহায়তা করে আসছিল। মৃত মজিবুর শেখের ছেলে টুন্ডা শামীমকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে।
পুলিশি রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের ছয়টি মামলার রেকর্ড রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের নজর এড়িয়ে আড়ালে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে। সোনাডাঙ্গা থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিমটি আগে থেকেই রেলস্টেশন এলাকায় ওত পেতে ছিল এবং ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাকে ঘেরাও করে ফেলে। কোনো প্রকার পালানোর সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
কেএমপি পুলিশ জানিয়েছে, টুন্ডা শামীম গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে খুলনার অপরাধী চক্রের একটি শক্তিশালী বলয় ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার এবং তার সহযোগীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, যা নগরীর আরও কিছু অমীমাংসিত মামলার জট খুলতে সাহায্য করবে। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং তার অপরাধী নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুলনাকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পুলিশের এমন ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে খুলনার সচেতন নাগরিক সমাজ।