
খুলনা-৪ আসনের রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনতার সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘জনতার মুখোমুখি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবেন। তার নির্বাচনী এলাকায় কে কোন ধর্মের অনুসারী তা বিবেচ্য হবে না; বরং সকল নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন। ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য চলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াকে একটি বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই আয়োজনে এলাকার শত শত মানুষ অংশ নিয়ে তাদের মনের না বলা নানা প্রশ্ন প্রার্থীর সামনে তুলে ধরেন।
নারীর অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জনৈক ভোটারের প্রশ্নের জবাবে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, নারী সমাজকে সম্মান ও যথাযথ নিরাপত্তা না দিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের মতো ব্যাধিগুলো দূর করতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এছাড়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অভিশাপ মাদক ও সন্ত্রাস দমনে তিনি পারিবারিক পর্যায়ে ধর্মীয় চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুব সমাজকে অপরাধ জগত থেকে দূরে সরিয়ে আনতে তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। ফিফা রেফারী মনির ঢালীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। একই সাথে উপজেলার সকল খেলার মাঠকে আধুনিকায়ন করে তরুণদের সুস্থ ধারার বিনোদন নিশ্চিত করা হবে।
জনসাধারণের দুর্ভোগ ও সরকারি সেবা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ভূমি অফিসগুলোকে দুর্নীতি ও দালাল মুক্ত করার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আজিজুল বারী হেলাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরণের অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে জনগণকে সাথে নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেন এবং রূপসায় একটি আধুনিক প্রেসক্লাব নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের জেল-জুলুম ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেল-জুলুমের ভয় পেলে জনসেবা করা সম্ভব নয়; অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান সবসময় অটুট থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং শিক্ষকসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। বিশিষ্ট শিল্পী কুদ্দুস বয়াতীর লোকজ সংগীতের মূর্ছনা অনুষ্ঠানটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রার্থীর এই অঙ্গীকারনামার সাক্ষী হন। নির্বাচিত হওয়া বা না হওয়ার উর্ধ্বে উঠে তিনি তার ব্যক্তিগত ‘হটলাইন’ নম্বরটি সবসময় জনগণের জন্য খোলা রাখার ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।