
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দ্বীন কায়েমে ও ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে খুলনার বিভিন্ন আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। শুক্রবার দিনব্যাপী খুলনা-২, খুলনা-৩ এবং খুলনা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রার্থীরা একযোগে ঘোষণা করেন যে, দ্বীন কায়েমে অংশ নেওয়া এবং এই আন্দোলনে জান ও মাল উৎসর্গ করা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি পবিত্র ফরজ বিধান। তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে মানবরচিত আইনের মাধ্যমে সমাজে প্রকৃত শান্তি আসেনি এবং আল্লাহর আইন ছাড়া টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল সকালে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চানমারী বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একটি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি কলোনি মাঠে আয়োজিত হামদ, নাত ও ক্বিরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন। একই দিনে খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী ও মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান দৌলতপুর থানার পাবলা, তিন দোকান মোড় ও দেয়ানা উত্তর পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। তিনি নির্বাচিত হলে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে একটি উন্নয়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল খুলনার অবকাঠামো আধুনিকায়ন, পরিকল্পিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে এতিম ও বিধবাদের পুনর্বাসন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এদিকে খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটী, হরিনগর ও মাদার বাড়ি বটতলাসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন। পথসভাগুলোতে তিনি কৃষিখাতের আধুনিকায়ন এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, সুন্দর ও সমৃদ্ধ আগামীর জন্য তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। খুলনার প্রতিটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা আধুনিক হাসপাতাল, পাঠাগার নির্মাণ এবং মাদক নির্মূলের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শান্তিময় সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সকল ক্ষেত্রেই তারা অতীতের মতো জনগণের যেকোনো বিপদে পাশে থাকার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।