
কারাগারের লোহার শিকের ওপাড়ে বন্দি জীবন আর এপাড়ের পৃথিবীতে পড়ে থাকা স্ত্রী ও নয় মাসের অবোধ সন্তানের নিথর দেহ—এক মর্মস্পর্শী ও বিষাদময় দৃশ্যের অবতারণা হলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে বন্দি থাকা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম শেষবারের মতো তার প্রিয়জনদের দেখার সুযোগ পেলেন নিথর অবস্থায়। শনিবার সন্ধ্যায় কারাফটকের সামনে যখন স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাদের শিশু সন্তানের মরদেহ আনা হয়, তখন এক ভারী ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনিক বিধি মেনে কারাফটকেই তাকে মরদেহ দুটি স্পর্শ করার এবং শেষ দেখার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
এই করুণ পরিণতির সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার বিকেলে, যখন বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রামে সাদ্দামের নিজ ঘর থেকে পুলিশ তার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনা অনুযায়ী, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুটিকে ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও আইনি জটিলতায় কারাবন্দি সাদ্দামকে শেষকৃত্যের জন্য মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে মানবিক দিক বিবেচনা করে মরদেহ দুটিকেই কারাগারের আঙিনায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, নিয়মমাফিক সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়েছিল এবং জুয়েল হাসান সাদ্দামকে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার পর পুনরায় তার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানিয়েছেন যে, পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত এক শোকাতুর স্তব্ধতা বিরাজ করছে সাদ্দামের পরিবার ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মাঝে।