
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বেশ আগভাগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চারটি ইউনিয়নে দলটির সমর্থিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিঘলিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নামগুলো ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নে দলীয় সবুজ সংকেত পেয়েছেন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এছাড়া বারাকপুর ইউনিয়নে মোঃ আবু দাউদ সরদার, সেনহাটি ইউনিয়নে শেখ রওশন আজাদ এবং গাজিরহাট ইউনিয়নে মোঃ আব্দুল কাদেরকে জামায়াত সমর্থিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, এবারের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যক্ষ মতামত, প্রার্থীদের বিগত দিনের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এই চার হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর আস্থা রেখেছে দল।
মনোনয়ন পাওয়ার পর দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। আগামীতে নির্বাচিত হতে পারলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ উপহার দেওয়াই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অবহেলিত অবকাঠামোর আধুনিকায়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে বারাকপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ আবু দাউদ সরদার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দল যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান।
এদিকে শিল্প ও ব্যবসাসমৃদ্ধ সেনহাটি ইউনিয়নের প্রার্থী শেখ রওশন আজাদ তাঁর নির্বাচনী ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতার মোহ নয়, জনগণের সেবক হওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সেনহাটি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষায় একটি পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তিনি এগোচ্ছেন। অপরদিকে গাজিরহাট ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আব্দুল কাদের সর্বাগ্রে একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁদের বিজয় নিশ্চিত। আর নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। এখন থেকেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত কর্মীসভা, উঠান বৈঠক এবং ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সব ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেশীশক্তি বা কারচুপি নয়, বরং সততা ও চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে জনগণের মন জয় করাই হবে তাঁদের আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার।